দক্ষিণ লেবাননে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) দুই সদস্য নিহত এবং অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা ও ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সিএনএনের পৃথক প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তসংলগ্ন মাজদাল জৌন শহরে হিজবুল্লাহর সাথে সম্মুখযুদ্ধ চলাকালে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে ওই দুই সেনা প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনার জবাবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় জোরালো বিমান ও কামান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও তার মিত্রদের সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার ‘থাড’ (THAAD) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের ৩০ শতাংশই খরচ হয়ে যায়।
প্রতিরক্ষা অস্ত্রের এই নজিরবিহীন ঘাটতির কারণে মার্কিন সমর বিশেষজ্ঞরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আপাতত ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় মিত্রদের কূটনৈতিক অনুরোধের কারণেই ট্রাম্প আক্রমণ স্থগিত রেখেছেন এবং যেকোনো লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন বাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি রয়েছে।
Leave a comment