সর্বজিৎ চাকমা, রাঙ্গামাটি
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নের ধুপানিছড়া পাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর, খাদ্যশস্য, নগদ টাকা, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও স্বর্ণ-রূপার অলংকার পুড়ে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত তিনটার দিকে বড়থলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধুপানিছড়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় রান্নাঘরের দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন দ্রুত পুরো টংঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘরের কোনো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আগুনে দুই কক্ষবিশিষ্ট টংঘর ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সারা বছরের জন্য মজুত রাখা প্রায় ২০০ হাড়ি ধানও পুড়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
তাঁরা আরও জানান, ঘরে রাখা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং সরকারি সহায়তায় পাওয়া ১০০ ও ২০ ওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আগুনে নষ্ট হয়েছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রায় ২২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
পরিবারটির দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক তোলা স্বর্ণালংকার ও চার তোলা রূপার অলংকারও পুড়ে গেছে। এসবের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এক রাতের আগুনে মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ৭৩ বছর বয়সী বিশ্বমিত্র ত্রিপুরা। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
Leave a comment