জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতাসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী, কয়েকজন সাংবাদিক এবং হাসপাতালে থাকা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁদের দাবি, হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীও অংশ নেন।
হামলার সময় হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়ার পর নতুন করে হামলার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
Leave a comment