অন্যতম শক্তিশালী ও আধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) চালকহীন ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের আধুনিক ও নিখুঁত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে চালকহীন মার্কিন ড্রোনটি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার পর সরাসরি আকাশ প্রতিরক্ষা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) বাজেট প্রাক্কলন ও নথির তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। বিপুল প্রযুক্তিনির্ভর ও চরম ব্যয়বহুল এই সামরিক যানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত সক্ষমতা বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিগত ধাক্কার মুখে পড়েছে।
সামরিক সংঘাতের সূচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহরে সচল ও সার্বক্ষণিক যুদ্ধ-প্রস্তুত অবস্থায় আনুমানিক ১৫৫টি রিপার ড্রোন সংরক্ষিত ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মাত্র প্রথম কয়েক মাসেই ওয়াশিংটনের এই বিশেষ ড্রোন বহর মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গোপনীয় নথির বরাতে জানা গেছে, সংঘাত শুরুর মাত্র ৮৩ দিনের মাথায় আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ও রণক্ষেত্রে অন্তত ৩০টি সচল রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের মূল ধমনি হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর আকাশে মার্কিন ড্রোনের ওপর এই সফল আঘাত ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিপুণ সক্ষমতাকেই প্রমা্ণ করে। স্বল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক দামি ড্রোন ধ্বংস হওয়ায় পেন্টাগনের ভেতরে যেমন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নতুন করে সামরিক মেরুকরণের শঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।
Leave a comment