ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরে গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১ আগস্ট (রোববার) ভোরে শহরের মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ‘সেজেগুজে’ থাকা অবস্থায় ফারজানা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত সম্পাদনের জন্য নিহতের মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত ফারজানা বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের দত্তখলা (সোলামুড়া) গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে। গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া সেন্টু মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফারজানাকে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় ফারজানার শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও তাকে সাজগোজ করা অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
নিহতের বাবা খলিল মিয়া জানান, গত শুক্রবারও তিনি মেয়েকে দেখতে ওই বাসায় গিয়েছিলেন। গৃহকর্তা বা বাসার লোকজন মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুর কোনো স্পষ্ট বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, ফারজানাকে নির্যাতন করে হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি পারিবারিক কোনো কলহ থেকে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a comment