ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো শুকায়নি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়। গত জুনে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,১২৫ জনে। দেশের বর্তমান ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং শ্লথ উদ্ধারকাজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) তথ্যটি নিশ্চিত করে জানানো হয় যে, ভূমিকম্পে আহত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬১ হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এতে উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাস ধূলিসাৎ হয়ে যায়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ভূমিকম্পের এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ভেনেজুয়েলার সার্বিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আটকে আছে চরম অনিশ্চয়তায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের মাত্র ১৬.৫ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। স্বজনহারা সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তখন সরকার ও সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সার্বিক ব্যর্থতার দায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এদিকে অর্থনৈতিক আঘাতও এসেছে সমান মারাত্মকভাবে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার প্রায় ২,০০০ কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নানা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেই অর্থ জোগানের পথ এখনো অস্পষ্ট।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির ওপর বহাল থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সাহায্যের অর্থ দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের দাবি, মানবিক দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে এসব আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা বাতিল করা না হলে ভেনেজুয়েলার পক্ষে এই অভূতপূর্ব দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
Leave a comment