যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প এখন শুধু খাদ্যসংস্কৃতির অংশ নয়, দেশটির অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বার্ষিক প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ডের এই শিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের। আর দেশজুড়ে পরিচালিত দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশের মালিক ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তারা।
শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে রেস্তোরাঁর আয় ছাড়াও ক্যাটারিং সেবা এবং সুপারমার্কেটে বিক্রি হওয়া প্রস্তুত কারিজাত খাবারের বাজার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে কারি শিল্প ব্রিটিশ খাদ্য অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কারি হাউস ও দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করছে। বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও উপশহরেও এসব রেস্তোরাঁ বিস্তৃত। সময়ের সঙ্গে কারি ব্রিটিশদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। বাইরে খাওয়া, টেকঅ্যাওয়ে এবং হোম ডেলিভারি—সব ক্ষেত্রেই এর চাহিদা রয়েছে।
এই শিল্পে রান্নাঘরের কর্মী, পরিবেশনকারী, ব্যবস্থাপক, সরবরাহকারী ও ক্যাটারিংকর্মীসহ প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অনেক পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
যুক্তরাজ্যে ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন। বিশেষ করে সিলেটি বংশোদ্ভূত অভিবাসীরা গত কয়েক দশকে এই শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদিও এসব রেস্তোরাঁ সাধারণভাবে ভারতীয় হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে এর বড় অংশের মালিকানা ও পরিচালনা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের হাতে।
তবে বর্তমানে শিল্পটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দক্ষ কর্মীর সংকট, খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, কঠোর ভিসানীতি এবং নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এরপরও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে কারি শিল্পের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে।
Leave a comment