যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা আক্রমণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি সোমবার আল-আলম নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলা চালানো হলে প্রতিরক্ষা ও পাল্টা জবাব-উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের কৌশলে অভূতপূর্ব ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
সাক্ষাৎকারে হোসেন মোহেব্বি দাবি করেন, “আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে এমন কিছু নতুন ও সর্বাধুনিক অস্ত্র নিয়ে আসব, যা দেখে সমগ্র বিশ্ব বিস্মিত হবে।” তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এবারের সামরিক প্রতিক্রিয়া কেবল কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং যুদ্ধের সামগ্রিক ভৌগোলিক পরিসর, ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের ধরনেও বড় ধরনের রূপান্তর নিয়ে আসবে।
আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র সামরিক কৌশলের পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্যবস্তুগুলোও এখন আর আগের মতো এক থাকবে না। আমাদের হাতে সম্পূর্ণ নতুন কিছু স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোতে এ যাবৎ কোনো আক্রমণ চালানো হয়নি।” যদিও মোহেব্বি নিরাপত্তার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কোনো অস্ত্র বা সামরিক ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেননি, তবে তাঁর এই বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি একটি সরাসরি ও প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নতুন সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরদিন আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে এলো। যেকোনো ধরনের উস্কানি বা ভুল পদক্ষেপের পরিণতি অত্যন্ত ‘বেদনাদায়ক ও বিধ্বংসী’ হবে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।
Leave a comment