লেবাননের আকাশে যখন একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতির আশা উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই শোকস্তব্ধ একটি পরিবারের ওপর নেমে এল ইসরায়েলি বিমান হামলার বিভীষিকা। দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা গ্রামে নিহত বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে এসে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে দুই বছরেরও কম বয়সী এক শিশুকন্যা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সাঈদ পরিবারের বাড়িতে যখন স্বজনরা দাফন কার্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো আঘাত হানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ছোট্ট শিশু তালিন। হামলায় তালিনের সাত বছর বয়সী বড় বোন আলিন এবং তাদের মা’ সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা স্থানীয় হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
নিহত তালিনের দাদা নাসের সাঈদ অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানান, পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার প্রভাবে লেবাননেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। আর সেই বিশ্বাস থেকেই তারা নিরাপদ মনে করে ছেলের দাফনে অংশ নিতে গ্রামে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম অন্তত শোকের মুহূর্তে শান্তি বজায় থাকবে, কিন্তু আচমকাই সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হলো।”
উল্লেখ্য যে, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর হামলার পর থেকে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। বিশেষ করে বুধবারের ব্যাপক হামলায় দেশজুড়ে ৩৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিরপরাধ শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন ক্রমাগত হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বরাবরের মতোই জানিয়েছে, তারা এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে একের পর এক শিশুর প্রাণহানি বিশ্ব বিবেককে চরমভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
Leave a comment