মো. ইয়াসিন সরকার, কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগরে ভেজাল শিশুখাদ্য উৎপাদন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি জরিমানা, কারাদণ্ড এবং একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কয়েকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন রং, কেমিক্যাল ও পাউডার ব্যবহার করে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযানকালে ‘জো জো গ্লাস ড্রিংকস’, ‘আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার্ড ড্রিংকস’, ‘জো জো এডিবল জেল’, অরেঞ্জ, লিচু, স্ট্রবেরি ও ম্যাংগো ফ্লেভারের আইস ললি এবং কোকোনাট ফ্লেভার্ড গ্লাস ড্রিংকস তৈরিতে অতিরিক্ত রং ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। এ অপরাধে বাদল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে পরিচালিত অভিযানে বি-বাড়িয়া বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাটার বন, কেক, বিস্কুট, ক্রিম বন, ক্রিম কেক ও ক্রিম রোল উৎপাদনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অভিযানে বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক ও পরিদর্শক আরিফ উদ্দিন, মুরাদনগর থানার এসআই আব্বাস আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না।”
Leave a comment