দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। রোববার মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতর থেকে দুই নারী মুসল্লি এবং মসজিদের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এবং আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আল-আকসা প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে হঠাৎ করেই দুই ফিলিস্তিনি নারীকে আটক করে ইসরায়েলি পুলিশ। আটকের পর তাদের দ্রুত কোনো এক ‘অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানায়, মসজিদের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান রায়েদ জাগির-কেও কর্তব্যরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ভারী পুলিশ পাহারায় মসজিদ প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক সফর বা অভিযান চালান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেন-গভিরের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল আল-আকসার ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করা এবং ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে বেন-গভির ক্ষমতায় আসার পর থেকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদ পরিচালনাকারী ‘ইসলামিক ওয়াকফ’ বিভাগ বারবার এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানালেও ইসরায়েল তা কর্ণপাত করছে না।
মুসলমানদের কাছে বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এই আল-আকসা মসজিদ। অন্যদিকে, ইহুদিরা একে ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে দাবি করে এবং সেখানে তাদের ‘তৃতীয় মন্দির’ নির্মাণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে পূর্ব জেরুজালেমকে ‘ইহুদিকরণ’ করছে এবং এর মাধ্যমে শহরটির ইসলামি ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের পূর্ব জেরুজালেম দখল এবং ১৯৮০ সালের সংযুক্তিকরণ অবৈধ। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে। আল-আকসার বর্তমান পরিস্থিতি ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এক বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment