ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় ২৯৩ আসনের মধ্যে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৪ আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এগিয়ে রয়েছে ৮৩ আসনে। এছাড়া বামজোট দুইটি আসনে এগিয়ে আছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচনী কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনেও একই তথ্য উঠে এসেছে। তবে এখনো কত শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১৪৮টি আসনে জয়। তবে অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৯৩টি আসনের ফল গণনা চলছে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকাল ৮টা থেকে কলকাতাসহ ২৩টি জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়।
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর মধ্যে। ভোটের ফলাফল ঘিরে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজ্যে এবারের ভোটে রেকর্ড ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। বুথফেরত জরিপের অধিকাংশই ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
ভোট গণনা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে ভারতের নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৪৩২ জন পর্যবেক্ষক, ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট অনিয়ম, সহিংসতা ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ওই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a comment