চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৯ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে হাফেজ মো. রবিউল ইসলাম (২৪) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ভুক্তভোগীর মায়ের করা ফোনের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে পটিয়া থানাধীন শাহ মালেকিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এক ব্যক্তি জানান, ওই মাদরাসার এক শিক্ষক ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করছেন এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরে কলারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রের মায়ের সঙ্গে ৯৯৯-এর কলটেকার কথা বলেন। তিনি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
কলটি রিসিভ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল সালমান। সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করেন পুলিশ ডিসপাচার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান। পরে ৯৯৯ থেকে বিষয়টি পটিয়া থানায় জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, গত ২০-২৫ দিন আগে অভিযুক্ত শিক্ষক ভোররাতে ওই ছাত্রকে ডেকে রান্নাঘর থেকে পানি আনতে পাঠান। পরে পেছনে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিজের কক্ষে নিয়েও একাধিকবার একই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ছাত্রটি ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পর মাদরাসায় ফিরতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে কারণ জানতে চাইলে সে মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি মাকে জানায়।
এরপর ছাত্রের মা মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষককে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার ফৈজানীর পাড়া এলাকায়। তিনি পটিয়ার আমজুরহাট এলাকার শাহ মালেকিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের মা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a comment