ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক চরম নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত স্কুটারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে ২৬ বছর বয়সী এক স্কুল শিক্ষিকাকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই স্বামীর বিরুদ্ধে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই নারীর আজই ছিল জন্মদিন। আর অভিযুক্ত স্বামী মনিষ ভাটি পেশায় একজন পুলিশ কনস্টেবল। গত ১৩ জুলাই (সোমবার) ভোরের দিকে পূর্ব দিল্লির কল্যাণপুরী এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্য পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার ভোরে মনিষ ভাটি ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুজনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিষ স্কুটার থামিয়ে স্ত্রীকে জোরপূর্বক রাস্তায় নামিয়ে দেন এবং দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝগড়ার একপর্যায়ে রাগের মাথায় মনিষ আচমকা তাঁর কাছে থাকা সরকারি বা ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে প্রিয়াঙ্কাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রিয়াঙ্কা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মনিষ স্কুটার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় পর ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ডেলিভারি বয় প্রিয়াঙ্কাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি মানবিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পূর্ব দিল্লির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী (এলবিএস) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে প্রিয়াঙ্কার শরীরের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে গিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মনিষ ভাটি সম্প্রতি পূর্ব দিল্লির অ্যান্টি-অটো থেফট স্কোয়াডে (এএটিএস) কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, নিহত ২৬ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। নিজের জন্মদিনের বিশেষ দিনটিতেই স্বামীর হাতে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হলো তাকে, যা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় দিল্লি পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছে। প্রিয়াঙ্কার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মনিষ ভাটিকে খুঁজে বের করতে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক বিশেষ দল মাঠে নেমেছে।
Leave a comment