ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বাড়ির উঠানে খেলার সময় বিষধর সাপের কামড়ে মোসা. নুসরাত আক্তার নামের তিন বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গত ১২ জুলাই (রবিবার) বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। সাপের কামড়ে গুরুতর আহত শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে বাড়ির উঠানে আপন মনে খেলছিল শিশু নুসরাত। খেলার একপর্যায়ে সে উঠানের একটি গর্তে হাত দিলে সেখানে ওত পেতে থাকা একটি বিষধর সাপ তার ডান হাতের কবজিতে কামড় বসিয়ে দেয়। শিশুটির আকস্মিক চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে ঘরের ভেতর থেকে স্বজনরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন। কোনো ধরনের ওঝা বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত সচেতনতার পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে দ্রুত পাশ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. কামাল হোসেন শিশুটিকে পরীক্ষা করেন এবং মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাপে কাটার পরপরই পরিবারের লোকজন কোনো সময় অপচয় না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটি মারা যায়।
এদিকে বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনা এড়াতে তাঁরা প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ঝোপঝাড় কেটে ফেলা এবং অবুঝ শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে, সাপের কামড়ের ঘটনায় ওঝা-বৈদ্যের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট বা কোনো ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে, রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টিভেনম বা সঠিক চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment