ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিমান ঘাঁটিতে জোড়া হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিশোধমূলক হামলার দাবি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি-এর দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স বা বিমান ও মহাকাশ শাখার নিখুঁত পরিচালনায় এই হামলাটি সম্পন্ন হয়। প্রথম দফায় কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি ট্যাংক এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি। এর পাশাপাশি কুয়েতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে ইরানি বাহিনী। সেখানে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত কৌশলগত ‘এফপিএস রাডার ব্যবস্থা’ সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ইরানের এই প্রভাবশালী এলিট ফোর্স স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি তাদের চলমান অভিযানের অংশ এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের এই জানমালের ক্ষতিসাধনকারী সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে-কোনো ধরনের নতুন সামরিক পদক্ষেপ বা উসকানির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।
আইআরজিসি তাদের বার্তায় কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক জলপথে বিদেশি কোনো সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হস্তক্ষেপ বা আধিপত্য বিস্তার ইরান কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। যদি ওয়াশিংটন তাদের এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কিংবা উসকানিমূলক আচরণ বন্ধ না করে, তবে ইরান আরও বড় ধরনের আঞ্চলিক সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। এই পালটাপালটি হামলার ঘটনায় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে এক বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a comment