জমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি না করে উল্টো তা আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাকসুদা চৌধুরী নামের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারীকে গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাকসুদা চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার সদর থানার রাউটগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী। তার বিদেশ গমনে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডনে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন ডেস্কে তাকে আটকে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাকসুদা চৌধুরী সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার একটি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার (মামলা নং- ০৩/৩৩৮) এজাহারনামীয় আসামি। রোববার সকালে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG201 ফ্লাইটে চড়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যান। তবে তার বিরুদ্ধে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তার যাত্রা স্থগিত করে তাকে আটক করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাধারণ ডায়েরির মূলে তাকে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুসের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, আম্বরখানা মৌজায় মাকসুদা চৌধুরীর মালিকানাধীন ৪.৮৫ শতক ভূমি বিক্রির জন্য প্রচার করলে অভিযোগকারী মো. শুকুর মিয়ার প্রবাসী জামাতা ফুজাইল আহমদ সেটি ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের আলোচনা শেষে ভূমির মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। বিবাদিনীর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবাসী ফুজাইল আহমদ দরগা গেটস্থ ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের একটি হিসাব থেকে আরটিজিএসের (RTGS) মাধ্যমে মাকসুদা চৌধুরীর প্রাইম ব্যাংক আম্বরখানা শাখার হিসাবে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা পাঠান। একই দিনে বাকি ৮ লক্ষ টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়, যা বিবাদিনী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন।
টাকা গ্রহণের পর সরকারি ফি জমা দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও শেষ মুহূর্তে এক আত্মীয়ের আপত্তির অজুহাত তুলে মাকসুদা চৌধুরী দলিল সম্পাদন না করেই কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর টাকা ফেরত কিংবা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি কালক্ষেপণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। পুরো টাকা আত্মসাৎ করে তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে সিলেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a comment