ভারতের ওডিশা রাজ্যে এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্ত্রীর ছুড়ে মারা মোবাইল ফোনের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওডিশা রাজ্যের বলাঙ্গির জেলায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই (শনিবার) নিজ বাসভবনে ওই দম্পতির মধ্যে কোনো একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। ঝগড়া চরম রূপ নিলে একপর্যায়ে স্ত্রী রাগের মাথায় নিজের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি স্বামীর দিকে লক্ষ্য করে সজোরে ছুড়ে মারেন। দুর্ভাগ্যবশত, ফোনটি সরাসরি স্বামীর মাথায় গিয়ে আঘাত করে এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বলাঙ্গির জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যুবকের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই যুবকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটতে শুরু করে। তিনি তীব্র মাথাব্যথা ও অস্বস্তি বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আবারও তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনার পর স্থানীয় থানা পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোনের মতো একটি সাধারণ বস্তুর আঘাতে কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যু হতে পারে, তা নিশ্চিত হতে তারা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন। অভ্যন্তরীণ কোনো রক্তক্ষরণ বা গুরুতর আঘাতের কারণেই এই মৃত্যু কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই স্পষ্ট হবে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
Leave a comment