শ্যাম্পু আবিষ্কারের আগে চুল পরিষ্কারের জন্য সাধারণ সাবানই প্রচলিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই অভ্যাস বদলে গেলেও মিনিমালিস্ট স্কিনকেয়ার ও ন্যাচারাল বিউটি রুটিনের জনপ্রিয়তায় কেউ কেউ আবার চুলে সাবান ব্যবহার করছেন। তবে দীর্ঘদিন কোনো অভ্যাস প্রচলিত থাকলেই তা চুলের জন্য উপকারী বা নিরাপদ—এমনটা নয়।
চুলে সাধারণ সাবান ব্যবহার করলে তা চুল ও মাথার ত্বকের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবানের pH এবং মাথার ত্বক ও চুলের গঠনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য।
ত্বকের চেয়ে চুলের জন্য সাবান কেন আলাদা?
এর অন্যতম কারণ pH। মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক pH সাধারণত ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫-এর মধ্যে থাকে। প্রচলিত সাবানের pH সাধারণত ৯ থেকে ১০-এর কাছাকাছি, অর্থাৎ এটি তুলনামূলক ক্ষারীয়।
অন্যদিকে, মাথার ত্বকের pH-ও সাধারণত ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫-এর মধ্যে থাকে। চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকলও সামান্য অম্লীয় পরিবেশে তুলনামূলক মসৃণ ও সমতল থাকে।
সাবানের তুলনামূলক বেশি ক্ষারীয় pH চুলের কিউটিকল ফুলিয়ে দিতে পারে। এতে চুলের পৃষ্ঠ রুক্ষ হয়ে যেতে পারে এবং চুলের স্বাভাবিক মসৃণতা নষ্ট হতে পারে।
২০২১ সালে Journal of Skin Appendage Disorders-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় শ্যাম্পু ব্যবহারের হার এবং মাথার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়। গবেষণাটিতে বিশেষ করে এশীয় ধরনের চুলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এতে প্রতিদিন শ্যাম্পু করার সঙ্গে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উপকারের সম্পর্ক পাওয়া যায়। গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি যে নিয়মিত চুল ধুলে মাথার ত্বকে তেল উৎপাদন বেড়ে যায়।
সাবান কি চুলের ক্ষতি করতে পারে?
মাঝেমধ্যে চুলে সাধারণ সাবান ব্যবহার করলেই যে বড় ধরনের ক্ষতি হবে, এমন নয়। তবে নিয়মিত বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুষ্কতা ও রুক্ষতা: সাবান চুল ও মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে। এতে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
জট ও চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি: ক্ষারীয় পরিবেশে চুলের কিউটিকল উঁচু হয়ে গেলে চুল পরস্পরের সঙ্গে বেশি জড়িয়ে যেতে পারে। জট ছাড়ানোর সময় চুল ছিঁড়ে বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মাথার ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া: মাথার ত্বকের স্বাভাবিক pH ও মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে চুলকানি বা খুশকির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুলের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া: রুক্ষ ও উঁচু কিউটিকল আলোকে সমানভাবে প্রতিফলিত করতে পারে না। ফলে চুল তুলনামূলক নিষ্প্রভ দেখাতে পারে।
রঙ দ্রুত বিবর্ণ হওয়া: রঙ করা বা রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত চুলে কিউটিকল উঁচু হয়ে গেলে রঙের অণু সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। এতে চুলের রং দ্রুত ফিকে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই চুল পরিষ্কারের জন্য সাধারণ সাবানের পরিবর্তে চুল ও মাথার ত্বকের জন্য তৈরি pH-সামঞ্জস্যপূর্ণ শ্যাম্পু ব্যবহার করাই তুলনামূলক নিরাপদ। বিশেষ করে খুশকি, চুলকানি, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা চুল পড়ার মতো সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে কোনো পণ্য ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সূত্র: RTV
Leave a comment