রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত ও পরিচিত ‘মিজানের ভাতের হোটেল’ ফের উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফুটপাতের ওপর প্রকাশ্যে চুলা বসিয়ে রান্নার কাজ চলার সময় সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুপুর ১২টার দিকে আগারগাঁও এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। ডিএনসিসির অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এবার ফুটপাতে কোনো স্থায়ী কাঠামো বা ক্রেতাদের বসার চেয়ার-টেবিল ছিল না। তবে ফুটপাত দখল করে চুলা বসিয়ে খাবার রান্না করা হচ্ছিল এবং লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পুরোনো আসবাবপত্র স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। অভিযান পরিচালনাকালে মিজানকে রান্না করা খাবারসহ সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং কাঠ-আসবাবপত্র সরিয়ে ফুটপাতটি সম্পূর্ণ চলাচলের উপযোগী ও দখলমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে এই অভিযান আগারগাঁও থেকে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, যেখানে সড়কের দুই পাশের বহু অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
উল্লেখ্য, মাত্র ১০০ টাকায় মানসম্মত গরুর মাংস ও আনুষঙ্গিক ভাত বিক্রির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতারাতি দেশজুড়ে পরিচিতি পান ‘ভাইরাল মিজান’। মূলত নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা খাদ্যরসিকদের নিয়মিত ভিড় জমতো তার এই দোকানে। প্রতিদিন সকালে ফুটপাতে চুলা বসিয়েই রান্নার কাজ সারতেন তিনি।
তবে ফুটপাত ও সড়ক দখলের অভিযোগে এর আগেও গত ১৬ আগস্ট তালতলা এলাকায় তার হোটেলটির স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ডিএনসিসি। তাছাড়া গত ১০ আগস্ট ফুটপাতে নেওয়া অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মিজান। টানা ১৪ দিন জেলখাটার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় ফুটপাতে ব্যবসা শুরুর শক্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে পুনরায় বন্ধ হয়ে গেল তার আলোচিত হোটেলের ফুটপাতভিত্তিক কার্যক্রম।
Leave a comment