গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও আরও একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও আটকের ঘটনায় মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গুরলেক জানান, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করা হয়েছে। গাজায় সংঘটিত অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গত মে মাসে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অন্তত দুটি নৌযানে হামলা চালিয়ে সেগুলো আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরে প্রায় ৫০টি নৌযান ছিল। আটক কর্মীদের পরে ইসরায়েলের একটি কারাগারে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াও এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তুরস্কের এই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পদক্ষেপকে ‘ভয় দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে এরদোয়ানকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।
এর জবাবে এরদোয়ানের কার্যালয় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘তুচ্ছ রাজনৈতিক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছে। তুরস্ককে নতুন হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের ইসরায়েলি প্রচেষ্টারও নিন্দা জানিয়েছে তারা।
Leave a comment