লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ধসে পড়া বহুতল ভবন ও ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬৪ জনে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে দেশটির কফি উৎপাদনকারী মূল কেন্দ্রস্থলে ভয়াবহ এই কম্পনটি অনুভূত হয়। এতে কালি ও পেরেইরাসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য বহুতল ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে এবং বহু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মানিজালেস শহরের একটি শতাব্দী প্রাচীন ক্যাথেড্রালের বিশাল মিনারেও গভীর ফাটল দেখা গেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দার শহর কালিতে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে এই ভূমিকম্প। সেখানে এক হাসপাতালেই কয়েকটি তলা ধসে পড়ে চিকিৎসাধীন রোগীরা আটকা পড়েন। হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খোলা রাস্তায় প্রায় ৬০০ রোগীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে হয়েছে। সেখানকার স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, খালি হাতে কিংবা কোদাল দিয়ে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতায় পেরেইরা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা কংক্রিট ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া রডের স্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের বিমানবন্দরেও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া দেশের প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, শহরগুলোতে লুটপাট প্রতিরোধ ও শান্তি বজায় রাখতে কারফিউ জারি করার পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে দেশের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সবাইকে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পটি দেশের মানুষকে ১৯৯৯ সালের সেই স্মরণীয় ও ভয়াবহ দুর্যোগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
Leave a comment