জমিজমা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ মাটিচাপা দিয়ে উপরে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছিল ঢাকার নবাবগঞ্জ ও আশুলিয়া থানা এলাকায়। দীর্ঘ দুই বছরের তদন্ত শেষে আদালতে মূল অভিযুক্ত স্বামীসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে থানা পুলিশ।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে রেহানা পারভীন অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। একই মাসের শেষের দিকে তাঁর স্বামী আওলাদ হোসাইনও দেশে ফেরেন। কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং পারিবারিক কলহের জেরে ওই বছরের ৫ জুলাই রাতে আশুলিয়ার একটি বাসায় কৌশলে রেহানাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্তরা হাত-পা চেপে ধরে এবং রেহানার স্বামী মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। অপরাধ ঢাকতে ও প্রমাণ লোপাট করতে ওই রাতেই সেপটিক ট্যাংকের পাশের গর্তে মরদেহ পুতে রেখে তার ওপর সবজির চারা রোপণ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নিহত রেহানার মা একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আশুলিয়া থেকে রেহানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে এই মামলায় নিহতের স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ তাঁর পরিবার ও স্বজনদের নাম যুক্ত করা হয়। মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং নিহতের নাবালিকা মেয়েও নিজ বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেছে।
অভিযোগপত্র জমা হওয়ার আগেই মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। তবে ঘটনা আড়াল করতে এবং তদন্ত প্রভাবিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের ঘুষ সাধার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে আসামি অস্ট্রেলীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে রেড নোটিশ বা ইন্টারপোলের সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a comment