সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ‘একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান নিরাপত্তা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, কিন্তু তিনি একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘উই ডোন্ট কেয়ার উনি কত নামী-দামি মানুষ। এসব ফালতু কথা উনি বলেন সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য। উনি বাংলাদেশে আসবেন মামলা ফেস করার জন্য। উনি আসলে কি এয়ারপোর্টে লোকজন মব করবে? নো ওয়ে। তাঁর প্রত্যেকটি কথা সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।’
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন ও পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারপ্রক্রিয়ায়। এখানে বীভৎস অপরাধীও তাঁর আইনগত অধিকার পাবেন। সেটা হাসিনাই হোক আর সাকিব আল হাসানই হোক।’
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘র’-প্রধান চীন থেকে এসেছেন। এটা এক ধরনের সফর। তিনি এখানে তাঁর কাউন্টারপার্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ নিয়ে সরকার মনে করলে সফরের পর বিবৃতি দিতে পারে। এটা নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই। আমাদের গোয়েন্দা প্রধানও ভারতে গেছেন, সফর করেছেন।’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তবে আগে যেই সম্পর্ক তারা করতে চেয়েছে, সেটি ছিল একজনের সঙ্গে। তাঁকে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক করতে হবে। ভারতের কোনো সংস্থা, কোনো প্রতিষ্ঠান আগে যেভাবে কাজ করেছে, যে অ্যাটিচুড করেছে, এখন সেভাবে হবে না। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের সঙ্গে যেভাবে হয়, সেভাবে হতে হবে। দুটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের মতো হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে পুনর্বিন্যাসের আলোচনা চলছে, তার অনুকূল পরিবেশ ভারতকেই তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের যে সমস্যা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার ‘অপ্রেসিভ’ হয়ে উঠতে পেরেছিল এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছিল। এর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তাঁকে তো প্রত্যর্পণের কথা ছিল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত চাই। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে চাই। তিনি সেখানে সংবাদ সম্মেলন করলেন। যাঁকে বিচার করতে চাই, তিনি সেখানে বসে সেটা করছেন। এটা ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, কী হবে।’
Leave a comment