ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য হুমকির কারণে বিমানগুলো সেখানে রাখার কোনো কারণ ছিল না। হুমকির সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হুমকিদাতাদের সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে মার্কিন ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার জন্য ফেয়ারফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এসব বিমান সেখানে স্থায়ীভাবে মোতায়েন ছিল না।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে আসছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামরিক সম্পদ ও সক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করে থাকে।
ন্যাটোর একটি সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর জন্য ইরানকে এখনো বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামও বলেছেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের সমর্থন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, কথিত ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি লন্ডন থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ইউরোপে ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার জন্য উপযোগী মার্কিন কয়েকটি ঘাঁটির মধ্যে এটি অন্যতম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাতের সময় ব্রিটিশ সরকার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কেবল প্রতিরক্ষামূলক হামলার অনুমতি দিয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি লন্ডন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। তবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা মার্কিন বোমারু বহরের রয়েছে বলেও জানিয়েছে পেন্টাগন।
নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানি
Leave a comment