‘সর্বজনীন বাসস্থান–টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী বিশ্ব বসতি দিবস–২০২৬-এর কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বৃক্ষরোপণ, টেকসই নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক সেমিনার, পুরস্কার ও সনদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
দিবসটির দ্বিতীয় দিনে আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে টেকসই নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক বিশেষ সেমিনার হয়। এতে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সর্বজনীন আবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমেদ, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, স্থপতি-পরিকল্পনাবিদ সৈয়দা জেরিনা হোসাইন, স্থপতি এআর শাকুর মজিদ এবং সিউকের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. সাদিউর রহিম জাদিদ।
সেমিনারে মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. নাহিয়ান, অধ্যাপক ইফতেখার রহমান ও অধ্যাপক ড. মুস্তাক আহমদ।
এর আগে সোমবার বর্ণাঢ্য র্যালি, বেলুন উড্ডয়ন, আলোচনা সভা, ইসিপিএস (ECPS) উদ্বোধন, আইডিয়া প্রতিযোগিতা, মডেল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব বসতি দিবসের মূল আয়োজন শুরু হয়।
পরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিউকের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, সর্বজনীন আবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই সিউকের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের দুই দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে নগরবাসীর মধ্যে পরিকল্পিত নগরায়ণ, টেকসই আবাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে। পরিকল্পিত, নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব সিলেট গড়ে তুলতে সিউকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি), ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্ম অংশ নেয়।
এ ছাড়া নাস হোল্ডিং ভেঞ্চার বিডি লিমিটেড, বার্জার, বিএসআরএম, খাদিম সিরামিক্স ও লাফার্জসহ আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজনে অংশগ্রহণ করে।
Leave a comment