চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উপায়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান সম্পূর্ণ আন্তরিক বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার ‘ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়া হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই কড়া বার্তা দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে আরাঘচির বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, কূটনীতির দরজা খোলা রাখার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তেহরান নিজেদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
বৈঠকে আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা যেমন কূটনৈতিক উপায়ে সম্মানজনক ও ন্যায্য সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে আন্তরিক, ঠিক তেমনি নিজেদের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও যুক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক নীতি ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা তেহরানের অগ্রাধিকার, কিন্তু প্রতিপক্ষ যদি সামরিক পথ বেছে নেয়, তবে ইরান আরও কঠিন ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে, ঠিক তখনই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই দ্বিমুখী বার্তা এলো। একই দিনে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও প্রায় অনুরূপ সুর মিলিয়ে কথা বলেন এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে সাত দিনের একটি বিশেষ প্রস্তাবিত রূপরেখা বা রোডম্যাপের কথা উল্লেখ করেন। সামগ্রিকভাবে, শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সংকট উত্তরণের পথ ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Leave a comment