চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে অভিনব কায়দায় অর্থ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। বিভিন্ন মাদরাসার নামে ভুয়া রশিদ বই ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিন ভণ্ড চক্রের সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার মালিক সুপার মার্কেট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রটিতে মোট আটজন সদস্য সক্রিয় ছিল। তারা গত বেশ কিছুদিন ধরে পবিত্র দ্বীনি মাদরাসার নাম ব্যবহার করে সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। রোববার মালিক সুপার মার্কেট এলাকায় চক্রটির কতিপয় সদস্যকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করে চাঁদা আদায় করতে দেখে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহ জাগে।
পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে প্রতারণার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে। এ সময় প্রতারক চক্রের আসল রূপ প্রকাশ পেয়ে গেলে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া খেয়ে চক্রের পাঁচ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় বাকি তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়। খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযানকালে পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ছাপানো জমা রশিদ বই জব্দ করেছে। উদ্ধারকৃত রশিদে ‘নাজমুল হোসাইন বিপ্লবী’ নামে এক ব্যক্তির পরিচয় ও মোবাইল নম্বর উদ্ধার করা হয়েছে। দামুড়হুদা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের জালিয়াতির বিষয়ে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া বাকি পাঁচ সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment