বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিজের চোট নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। তিনি জানিয়েছেন, ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরা পড়ার পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও বিশ্বকাপ খেলার জন্য সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এখনো প্রতিদিন ব্যথা নিয়েই খেলছেন তিনি।
ফাইনালের দুই দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে দিবু বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাঁর ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরা পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার হাতে এখনো প্রতিদিনই ব্যথা হয়। জানতাম, অনেক কষ্ট সহ্য করতে হবে। তাই অস্ত্রোপচার করাইনি। গ্রুপ পর্বে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলো থেকে আর এসব নিয়ে ভাবিনি। এখন অনেক ভালো অনুভব করছি।’
বিশ্বকাপ জিতলে অবসর নেওয়ার বিষয়ে কয়েক বছর আগে সতীর্থদের সঙ্গে করা মন্তব্যও সামনে এসেছে। তবে এখন সে বিষয়ে ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
দিবু বলেন, ‘আগে তো বিশ্বকাপ জিততে হবে। এখন আমার পুরো মনোযোগ সেটিতেই। এই দলটা গত কয়েক বছরে বারবার নিজেদের ছাড়িয়ে গেছে। আমরা যা অর্জন করেছি, তা ভাবলে অনেক সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। এখন আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চাই।’
চলতি বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। দিবুর ভাষ্য, কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার তিনি আরও বেশি উপভোগ করছেন।
তিনি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের চেয়ে এবার অনেক বেশি উপভোগ করছি। পা দিয়ে খেলায়ও উন্নতি করেছি। রোববার মাঠে নামলে আমাকে হাসিমুখেই দেখবেন।’
চাপের মুহূর্ত সামলানোর প্রসঙ্গে দিবু বলেন, ‘এক বা দুটি গোল খেলেও পরের মুহূর্তে আমি আবার আগের সেই দিবুই থাকি। চাপ আমাকে প্রভাবিত করে না। আমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমার ভেতরে এখনো মার দেল প্লাতার সেই ছোট্ট ছেলেটাই বেঁচে আছে।’
ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রশংসাও করেন আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। শুধু লামিনে ইয়ামাল নয়, পুরো দলই শক্তিশালী। তাদের অসাধারণ একজন কোচ আছেন। তাদের যেমন নিজস্ব শক্তি আছে, আমাদেরও আছে। আশা করি, এমন একটি ম্যাচ হবে, যা দর্শকেরা অনেক দিন মনে রাখবেন।’
প্রতিপক্ষ নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন দিবু। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে আমরা তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ তো আমরা ঠিক করি না। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। ফাইনালে গরম আবহাওয়ার সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে।’
গোলরক্ষকের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন গোলরক্ষকের কাজ শুধু বল আটকানো নয়। ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দেওয়া, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগানো এবং নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। সতীর্থরা যখন দেখে আমি শান্ত আছি, তখন তারাও আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারে।’
সবশেষে কোচ লিওনেল স্কালোনির একটি বার্তার কথা তুলে ধরেন দিবু। তাঁর ভাষ্য, ‘কোচ আমাকে বলেছিলেন, “তুমি যেমন অবস্থাতেই থাকো না কেন, আমি তোমাকে আমার দলে চাই।” এই কথার মূল্য আমার কাছে দশটি পেনাল্টি ঠেকানোর চেয়েও বেশি। আর যদি আমার বিশেষ কিছু করার সুযোগ না-ও আসে, তবু আমরা ফাইনাল জিততে পারি—সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’
Leave a comment