হঠাৎ মাথার এক পাশে তীব্র ধুকপুকে ব্যথা, সঙ্গে বমি বমি ভাব, আলো বা শব্দ সহ্য না হওয়া—এসবই মাইগ্রেনের পরিচিত লক্ষণ। অনেকেই এটিকে সাধারণ মাথাব্যথা মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইগ্রেন একটি স্নায়ুতন্ত্র-সম্পর্কিত সমস্যা। এর অন্যতম সাধারণ উদ্দীপক (ট্রিগার) হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেনে আক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ একটি প্রধান ট্রিগার। শুধু চাপের সময়ই নয়, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কমে যাওয়ার পরও অনেকের মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হতে পারে।
কেন মানসিক চাপ মাইগ্রেন বাড়ায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইগ্রেনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মানসিক চাপ এ পরিবর্তনকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
মাইগ্রেন হলে কী করবেন?
মাইগ্রেনের চিকিৎসায় সাধারণত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়—তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা কমানো এবং ভবিষ্যতে মাইগ্রেনের আক্রমণ প্রতিরোধ করা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মানসিক চাপ যদি মাইগ্রেনের প্রধান কারণ হয়ে থাকে, তবে চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা প্রতিরোধমূলক ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।
কখন প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রয়োজন?
চিকিৎসকেরা সাধারণত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার পরামর্শ দেন যদি—
- সপ্তাহে তিনবার বা তার বেশি ব্যথার ওষুধ খেতে হয়।
- সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে উপশম না হয়।
- মাইগ্রেনের কারণে কাজ, পড়াশোনা বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।
এ ধরনের ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে মাইগ্রেনের আক্রমণের সংখ্যা, তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কমানো সম্ভব হতে পারে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অনেকের মাইগ্রেনের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এ জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ধ্যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে বারবার তীব্র মাথাব্যথা হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মাইগ্রেনের তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
Leave a comment