সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি জানান।
উপ-প্রেস সচিব বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। টিকে থাকতে হলে এবং আগামীতে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বৈঠকে প্রতিনিধিরা সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমি কমিশন গঠন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় ব্যবহার, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং ঋণসুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশের ভেতরে বিনিয়োগ হলে অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, ‘সরকার পর্যায়ক্রমে যেসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করছে।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এত সমস্যা রয়েছে, তা দেখে এখনো বিস্মিত হই। গত ১৭ বছরে এগুলোর সমাধান হওয়া উচিত ছিল। তা হলে আজ পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।’
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ৩১ শয্যা নিয়ে। পরে বিএনপি সরকারের আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার এসব হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা-সরঞ্জামের ওপর আরোপিত কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
Leave a comment