বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাঙ্গামাটি)
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ৩ নম্বর গুলশাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মানিক তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়ানো, অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান মানিক জানান, ২০০১ সালে বাঘাইছড়ি উপজেলার হাজিপাড়া এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. মমিনুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ কন্যা দিল আফরোজা আক্তার লিপির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ বিষয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ব্যক্তিকে শৈশবের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেন। পরে পুনরায় বিদেশে যাওয়ার পর স্ত্রীর মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট নিজের মোবাইলে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে তাদের কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
মানিকের অভিযোগ, এ সময় তার স্ত্রী পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিয়ে করার ইচ্ছার কথাও জানান। পরবর্তীতে ২০২২ সালে অনলাইনের মাধ্যমে তাকে ডিভোর্সের কাগজ পাঠানো হয়। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ২০২৪ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশে ফেরার পর তারা পৃথক কক্ষে বসবাস করতেন। শর্ত সাপেক্ষে স্বামীকে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নিস্তেজ করে নিতে বলেন এবং আমি সেটিও করি। পরে স্থানীয়ভাবে সালিস ও শর্তসাপেক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে একজন ইমামের কাছে পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে কিছুদিন পর আবারও ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর যোগাযোগ শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মানিক বলেন, একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তিনি নিজ জেলা ময়মনসিংহে চলে যান। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বাড়িতে কয়েকদিন অবস্থান করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে মারধর করেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার স্ত্রীকে ছেলের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমান মানিকের দাবি, এরপর লংগদু থানার এসআই মামুনের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল রাতে তার বাড়িতে আসে এবং একটি জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করে নগদ ২ লাখ ৯ হাজার টাকা, আনুমানিক ১০ থেকে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ছেলের বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যার তদন্ত বর্তমানে পিবিআই চট্টগ্রাম করছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে সম্পদ দখল, স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মানিকের ভাষ্য, বাড়ি নির্মাণের জন্য আমি প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। আমার অভিযোগ, এর মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে, যা আমার স্ত্রী স্বীকার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
Leave a comment