এমরান হোসেন, জামালপুর
বাংলাদেশ পুলিশে এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি নিয়ে দেওয়ার নামে পঁচিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন জামালপুর জেলা পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে জামালপুর পৌর শহরের ফৌজদারি মোড় এলাকা থেকে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, একাধিক ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও কথিত চুক্তিপত্র সহ জালিয়াতির বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) জামালপুর সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম শিশির (২৭) এবং পাবনা জেলার আতাইকুলা উপজেলার চরপাড়া (গাঙ্গহাটি) এলাকার বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৮)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বাণীকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কাফি আল সাকিব সিয়ামকে বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয় এই চক্রটি। তারা চাকরির বিনিময়ে সিয়ামের পরিবারের নিকট ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। চাকরি হওয়ার পর টাকা পরিশোধের শর্তে গ্যারান্টি হিসেবে সিয়ামের পরিবারের কাছ থেকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক এবং তিনটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাকরি নিয়ে দেওয়ার নামে একটি কথিত লিখিত চুক্তিপত্রও সম্পাদন করে তারা।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের মনে সন্দেহ দেখা দিলে তারা জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের সার্বিক নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, ছয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, চাকরি প্রদানের ভুয়া চুক্তিপত্র এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের অভিভাবকদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন- বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রার্থী যদি কোন ধরনের তদবির পু আর্থিক লেনদেনে জড়িত হন, তবে তার নিয়োগ বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাকরি দেওয়ার নামে কেউ প্রতারণার চেষ্টা করলে বা এ ধরনের তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
Leave a comment