জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (বিসিটিআই) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘চিত্রনাট্য রচনা ও গল্প বলার ধরণ এবং চলচ্চিত্রসহ গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতকরণে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গঠন’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজ গঠন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই এ খাতে নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল। তিনি বলেন, একটি সুগঠিত চিত্রনাট্যই চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি। বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর এবং চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা মেজবাহ উদ্দিন সুমন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
সূচনা বক্তব্য দেন বিসিটিআইয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মোকছেদ হোসেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জিল্লুর রহমান পল।
সমাপনী পর্বে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষক ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনায় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এবং নৈতিক গণমাধ্যম চর্চা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
Leave a comment