সিলেট নগরের গোয়াবাড়ি এলাকায় এক নারী পর্যটককে উত্ত্যক্তের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরদের আটক করে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দিলেও এখনো তাদের খুঁজে পায়নি পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) নগরের গোয়াবাড়ি এলাকার আলী বাহার চা-বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আশফিকা তাহসিন নামের এক তরুণী নিজেকে ইভ টিজিংয়ের শিকার দাবি করছেন। তিনি ঘটনাটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে লাইভ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী পর্যটক চা-বাগান এলাকায় ঘোরার সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন কিশোর ও তরুণ তাকে অনুসরণ করতে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করছে এবং অশালীন আচরণ করছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা মেয়ে দেখো নাই?’ এর জবাবে অভিযুক্তদের অশোভন আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে মোবাইল ক্যামেরার সামনে এসে পোজ দিতে এবং আরেকজনকে সিগারেট টানতে টানতে বিরক্ত করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তারা পিছু হটা তো দূরের কথা, বরং অনুসরণ করতে থাকে। আশপাশে লোকজন থাকলেও কেউ প্রতিবাদ বা সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি বলেও তিনি জানান।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পর্যটন এলাকায় নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা শনিবার রাতে অভিযুক্ত কিশোরদের আটক করেন। এ সময় সালিশের মাধ্যমে তাদের মারধর, কান ধরে উঠবস করানো এবং লাইভে ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আটক কিশোরদের বয়স আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ বছর। তাদের বাড়ি টুকেরবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। এলাকাবাসী তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শাসন করে ছেড়ে দেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম বলেন, “স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটক করলেও পুলিশকে জানানো হয়নি। পরে পুলিশ অভিযান চালালেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে। আটক করা গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, “আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় তারা নিজেরাই বিচার করছে। তবে এ ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী নয়, অভিযুক্ত কিশোরদের সঙ্গেও অন্যায় হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে আলাদা বিচারব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কাউন্সেলিং প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সিলেটের পর্যটন খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়। পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।”
Leave a comment