কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বন্ধুর বোনকে কটূক্তি করায় অটোচালক শরীফ মিয়াকে (২৮) হত্যার অভিযোগে তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে রাজধানীর টিকাটুলি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর দত্তের আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় গ্রেপ্তারকৃতরা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কিশোরগঞ্জ ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের নিলয় মিয়া ওরফে বাবু (১৯), ভৈরব পৌর শহরস্থ চন্ডিবের এলাকার বাদল মিয়া ওরফে ইব্রাহিম (২০) এবং উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের শ্রীমতিচর গ্রামের হৃদয় মিয়া (২৩)। গত ১৪ অক্টোবর রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী, মাটিকাটা (শান্তি নগর) এলাকা থেকে শরীফের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শরীফ ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পরদিন কুলিয়ারচর থানায় শরীফের ভাই শিপন মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর র্যাব-২ এর সহায়তায় গত রোববার রাতে রাজধানীর টিকাটুলি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামিদের বরাত দিয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা কালবেলাকে বলেন, ‘হত্যার শিকার শরীফ মিয়া এবং আসামিরা একে অপরের বন্ধু ছিল। ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ারচরে বেড়াতে এসে নিলয়ের বোনকে নিয়ে কটূক্তি করেন শরীফ। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শরীফকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে শরীফ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নিলয় ও হৃদয় শরীফকে চেপে ধরেন এবং বাদল চাকু দিয়ে শরিফের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হত্যায় ব্যবহৃত চাকু এবং হত্যার পর নিয়ে যাওয়া শরীফের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায় নিলয়ের জুতা।’
Leave a comment