মাইকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে প্রায় ৬০ দিন কাটানোর পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকাল ৩টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি।
কারাগারের মূল ফটকে ইমিকে নিতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি। মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ইমি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিনি জামিন পান। তবে আইনি জটিলতার কারণে আরও সাতদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে।
মুক্তির পর নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইমি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করি, শ্রদ্ধা করি। সেই জায়গা থেকেই আমি ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছিলাম। এটা কি অন্যায়? যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, তারা মব তৈরি করে আমাদের থামানোর চেষ্টা করেছে এবং মিথ্যা মামলায় আমাকে দুই মাস জেলে আটক রেখেছে। একদিন দেশবাসী এর বিচার করবে।”
এসময় তার বাবা শেখ গোলাম ইকবালও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি গর্বিত যে আমার মেয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলার কারণে মবের শিকার হয়েছে এবং কারাভোগ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেদিন আমার মেয়ে মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছিল, সেদিন দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও সেই ভাষণ প্রচার হয়েছে। তাহলে সেটা অন্যায় হলো না, আর আমার মেয়ে ভাষণ বাজানো অন্যায় হয়ে গেল? এ প্রশ্ন আমি জাতির কাছে রেখে দিলাম।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। পরে রিকশায় মাইক নিয়ে ভাষণ প্রচারের সময় ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী এতে বাধা দেন।
একপর্যায়ে ইমি ও তার সঙ্গে থাকা আরেকজনকে রিকশাসহ শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
Leave a comment