আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তীয় প্রদেশ কুনারের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান বাহিনী ভয়াবহ সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে কুনার বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে সীমান্তপার থেকে ভারী মর্টার শেল ও রকেট ছোড়া হয়। তবে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, এই হামলায় কেবল রকেট নয়, বরং পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলায় আহত ৭৫ জনের মধ্যে ৩০ জনই কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। বাকিরা শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক গণমাধ্যমকে বলেন, “ভোরবেলা হঠাৎ করেই ক্যাম্পাসজুড়ে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্লাসরুম ও প্রশাসনিক ভবনগুলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।”
এদিকে, এই হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা কোনো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রতিবেশী দেশে হামলা চালায়নি। তবে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিগত কয়েক মাস ধরেই ডুরান্ড লাইন বা আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ ও উত্তেজনা চলছে। তালেবানের অভিযোগ, পাকিস্তান প্রায়শই সীমান্ত এলাকায় উস্কানিমূলক গোলাবর্ষণ করে থাকে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের দাবি— আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের আসাদাবাদ ও জালালাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বই-খাতা ও রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তালেবান সরকার এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
Leave a comment