সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা ও নিরাপত্তা সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে বলে বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অসত্য’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রসমূহ। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ড. ইউনূসের জন্য পূর্বনির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ-এর সুরক্ষা ও ভিভিআইপি মর্যাদা এক বছরের জন্যই অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ড. ইউনূসের নিরাপত্তা সুবিধা ১০ আগস্ট ২০২৬-এর পর তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু গত ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত নতুন প্রজ্ঞাপনটি (এস.আর.ও. নং ৮০-আইন/২০২৬) বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
• ১০ ফেব্রুয়ারির আদেশ অক্ষুণ্ণ: ২৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে জারি করা পূর্বের আদেশটি (এস.আর.ও. নং ৪৬-আইন/২০২৬) ‘অক্ষুণ্ণ রাখা’ হয়েছে। ওই আদেশে ড. ইউনূসকে তার ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী ১ বছর পর্যন্ত ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
• ৬ মাসের নিয়ম কাদের জন্য?: নতুন আদেশে যে ‘৬ মাস’ নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত একটি স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন। এটি পরবর্তী সময়ে যারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা হবেন, তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ড. ইউনূসের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারির বিশেষ আদেশটি এর বাইরে স্বতন্ত্রভাবে কার্যকর থাকবে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, “যেহেতু নতুন প্রজ্ঞাপনে পূর্বের বিশেষ আদেশটি ‘অক্ষুণ্ণ রাখার’ কথা বলা হয়েছে, তাই ড. ইউনূসের নিরাপত্তা বা পদমর্যাদা নিয়ে আইনি কোনো অস্পষ্টতা নেই। এটি ভবিষ্যতের সরকার প্রধানদের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি স্থায়ী সংস্কার মাত্র, যা ড. ইউনূসের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ সুযোগকে কোনোভাবেই স্পর্শ করবে না।”
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল ও এসএসএফ সুরক্ষা ভোগ করবেন। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১০ আগস্টের সময়সীমাটি মূলত নতুন ৬ মাসের নিয়মের ভুল ব্যাখ্যার ফল।
Leave a comment