কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে অপর এক আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল আদালত-৬-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলি এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা টিটু কুমার নাথ জানান, গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দেন। তারা হলেন ইমরান হোসেন হৃদয়, মোহাম্মদ সোহাগ, মোহাম্মদ সুজন ও রাহাতুল রহমান জুয়েল। অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
এর আগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত। তারা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে ছিনতাই ও ডাকাতি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব জানায়, অভিযুক্তরা যাত্রীকে অটোরিকশায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মালামাল ছিনিয়ে নিত। ঘটনার দিন বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ফিরছিলেন। রাতের দিকে তাকে কৌশলে অটোরিকশায় তোলা হয়। পরে যাত্রাপথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোক নেমে এসেছে।
Leave a comment