বর্তমানে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং গভীরতম জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী টিম হজসন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে চলমান বিশ্বখ্যাত ‘সেরাউইক’ (CERAWeek) জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
টিম হজসন বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং মিত্র দেশগুলোর স্থিতিশীলতার জন্য জ্বালানি সুরক্ষা কতটা অপরিহার্য, তা গত কয়েক দশকের মধ্যে বর্তমান সময়ের মতো এত স্পষ্ট হয়নি।” তিনি মনে করেন, বিশ্ববাজারের বর্তমান অস্থিরতায় কানাডা একটি আদর্শ, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে।
কানাডীয় মন্ত্রীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশেষ করে এশীয় দেশগুলোকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট ইউরোপীয় জ্বালানি সংকটের সাথে বর্তমান এশীয় পরিস্থিতির তুলনা করেন। হজসনের মতে, জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে এশিয়ার অনেক উদীয়মান অর্থনীতির গতি স্থবির হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব এখন হন্যে হয়ে বিকল্প খুঁজছে। এমন পরিস্থিতিতে কানাডা তাদের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি করে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কানাডার এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ওটওয়ার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে। মূলত একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে কানাডা এখন বৈশ্বিক জ্বালানি কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
Leave a comment