যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে সেই প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একতরফা’ বলে অভিযোগ করেছে Iran।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei বলেন, যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্তির দাবিই ছিল তেহরানের মূল লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, ইরানের প্রস্তাব ছিল “আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বশীল ও উদার উদ্যোগ”।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো ইরানের পাল্টাপ্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social
–এ লিখেছেন, “তাদের শর্তগুলো আমার পছন্দ হয়নি—এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে একাধিক দফা প্রস্তাব ও পাল্টাপ্রস্তাব বিনিময় হলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
Andrea Dessì বলেন, “দুই পক্ষই সর্বোচ্চ দাবিতে অটল রয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে সবচেয়ে বেশি।”
এদিকে উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে United States ও Israel যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এ অবস্থায় Emmanuel Macron এবং Keir Starmer হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
Leave a comment