মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ শিশুদের। ইরানে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ২০৮ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার এক ভিডিও বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এই হৃদয়বিদারক খবরটি প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-তে দেওয়া বিবৃতিতে জাফর মিয়াদফার জানান, নিহত ২০৮ জন শিশুর মধ্যে ১৬৮ জনই ছিল মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যুদ্ধের শুরুতে ওই বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এই বিশাল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স ছিল মাত্র তিন দিন। ইরান সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে দেড় হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের ওপর হামলার ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফরকান্দি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩১৮টি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬টি সাধারণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৪৯টি জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং ৪০টি হাসপাতাল রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর মধ্যে অন্তত ১২টি বর্তমানে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হওয়ায়, আহতদের উদ্ধার এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বেসামরিক স্থাপনা ও চিকিৎসা কেন্দ্রের ওপর এই অব্যাহত হামলায় ইরানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় ও হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
Leave a comment