বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই নিজেদের কৌশলগত দূরদর্শিতার প্রমাণ দিল সৌদি আরামকো।
সৌদি গ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরামকোর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল অনুযায়ী, কোম্পানির নিট মুনাফা ১২২ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৯৭.৫ বিলিয়ন রিয়াল। আরামকো জানিয়েছে, তাদের সমন্বিত নিট মুনাফা ১২৬ বিলিয়ন রিয়ালে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৯৯.৮ বিলিয়ন রিয়াল থেকে উল্লেখযোগ্য বেশি।
এরমধ্যে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ ছিল ১১৫.২ বিলিয়ন রিয়াল (২০২৫ সালে ছিল ১১৮.৯ বিলিয়ন রিয়াল), ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ৬৯.৯ বিলিয়ন রিয়াল (গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৭১.৮ বিলিয়ন রিয়াল)। মূলত চলতি মূলধনে ৫৯.১ বিলিয়ন রিয়াল বৃদ্ধির কারণে এটি প্রভাবিত হয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত গিয়ারিং অনুপাত ছিল ৪.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের শেষে ছিল ৩.৮ শতাংশ।
প্রথম প্রান্তিকে মোট ৪৫.৪ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় করা হয়েছে, যা কোম্পানির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক। পরিচালনা পর্ষদ প্রথম প্রান্তিকের জন্য ৮২.১ বিলিয়ন রিয়াল লভ্যাংশ নিশ্চিত করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ বেশি। এটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রদান করা হবে।
আরামকো আরও জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গড় নিয়োজিত মূলধনের ওপর মুনাফা ছিল ২০.৭ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল প্রতি ব্যারেল ৭৬.৯ ডলার।
সৌদি আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আমিন এইচ. নাসের বলেন, কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের এই ফলাফল এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের শক্তিশালী কার্যক্ষমতা এবং দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার প্রতিফলন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এখন প্রতিদিন ৭০ লক্ষ (৭ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। এটি বাজারে তেল ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জন্য একটি ‘জীবনরেখা’ বা গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমাতে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নাসের আরও যোগ করেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের অপরিহার্য ভূমিকা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। চলমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সৌদি আরামকো তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকারের দিকে মনোনিবেশ করছে এবং যেকোনো বিঘ্ন মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যাচ্ছে।
কোম্পানির মতে, তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মজুদ সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সংকট নিরসনে অতিরিক্ত নমনীয়তা প্রদান করেছে।
Leave a comment