চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসী গুলিবর্ষণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১১ বছরের স্কুলছাত্রী রেশমী আক্তার এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির সময় একটি গুলি রেশমীর বাঁ চোখে লাগে। গুলিটি চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বর্তমানে শিশুটি লাইফ সাপোর্টে আছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম, অন্যদিকে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। মা সাবেরা বেগম বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, আর বাবা রিয়াজ আহমেদ নিঃশব্দে বসে আছেন।
পরিবার জানায়, ঘটনার সময় রেশমী ২০ টাকা নিয়ে দোকানে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ গোলাগুলির মধ্যে পড়ে সে আর ফিরতে পারেনি। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধ ও সন্ত্রাসী সংঘর্ষের কারণে নিরপরাধ এই শিশুটি প্রাণঘাতী গুলির শিকার হয়েছে।
রেশমীর বাবা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও শাকসবজি বিক্রি করে সংসার চালান। মেয়ের চিকিৎসার খরচে এখন তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে আছে। বর্তমানে অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইফুল আলম বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন এবং অস্ত্রোপচার করলে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ঘটে এবং এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
নিরাপদ জীবনের প্রশ্নে এক নিষ্পাপ শিশুর এমন পরিণতি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
Leave a comment