ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ সামরিক অভিযানে মানবিক বিপর্যয় চরম সীমায় পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে কমপক্ষে ২১০ জন শিশু নিহত এবং আরও ১ হাজার ৫১০ জন আহত হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফারঘান্দি এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ইছনা’ (ISNA) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাফারঘান্দি জানান, যুদ্ধের তাণ্ডবে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং দেশটির স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা খাত পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৩০০টি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হওয়ায় আহতদের উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই সংঘাতের সবচেয়ে কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা। এতে অন্তত ১৫০ জন ছাত্রী নিহত হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। যদিও এই হামলার দায় নিয়ে নানামুখী দাবি রয়েছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এটি মার্কিন বাহিনীর মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে মার্কিন ‘টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প পাল্টা দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছেও এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। বর্তমানে এই হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত চলছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে ইরানও চুপ করে নেই। তারা ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। বিশ্বনেতারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
Leave a comment