খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীতে মসজিদ গলিতে একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে আজমল হোসেন (২০) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, চুরির সন্দেহে মারধরের একপর্যায়ে তিনি ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মারধর করে আজমলকে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক তদন্তে চোর সন্দেহে আজমলকে মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে কাটা চুল, লাঠি, কিছু বই ও ধস্তাধস্তির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে ওই এলাকায় চোর ধরা পড়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের নিচে আজমলকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এক দোকানদার বলেন, চোর ধরা পড়েছে শুনে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, একজন ব্যক্তি ভবনের নিচে পড়ে আছেন এবং তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে। পরে তিনি দোকানে ফিরে যান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আজমলকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, চোর সন্দেহে আজমলকে মারধর করা হয়েছিল। বিচার-সালিশের একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথার চুলের একটি অংশও কাটা ছিল বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।
আজমলের বাবা কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করেন, চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁর ছেলেকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজমলের রুমমেটেরা তাঁকে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা দিলে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে বলেও তাঁরা জানিয়েছিলেন।
কুতুবউদ্দিন বলেন, এরপর আজমলের ফোন থেকে তাঁকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা পর আর ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখন তিনি আশঙ্কা করেন, তাঁর ছেলেকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
কুতুবউদ্দিন বলেন, ‘আমার সন্তান তো চলেই গেছে। একটা ব্যক্তি ভাত চেয়ে বা চুরি করে খেতে পারে না। যে ১০০–২০০ টাকা নিতে পারে না, তাকে এই অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, আজমলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড়শুলুয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম কুতুবউদ্দিন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a comment