নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পরম আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার এক দিন অতিবাহিত হলেও উদ্ধার পাননি একই পরিবারের নিখোঁজ চার সদস্য।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বাবা, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী সংলগ্ন আমান সিমেন্ট কারখানার সামনের মেঘনা নদীতে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় রায়সা খাতুন (৪০) নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও একই পরিবারের চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমুদ্দি গ্রামের অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিন (৫৪), তাঁর দুই ছেলে সজীব হোসেন (২৪) ও সামিন হোসেন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)।
নৌ-পুলিশ ও স্থানীদের সূত্রে জানা গেছে, হোমনার শ্রীমুদ্দি এলাকা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিতে ১৩ জন যাত্রী একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
ট্রলারে যাত্রীদের পাশাপাশি বিয়ের জন্য সংগৃহীত দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল। পথিমধ্যে মেঘনা নদীর মোহনায় হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হলে ট্রলারে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা ডুবে যায়। দুর্ঘটনা দেখে পাশে থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নদী থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় উদ্ধার পাওয়া শিরিন বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, আনন্দের সাথে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা ট্রলারে উঠেছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের ঝড়ে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। উদ্ধারকৃত মৃত নারীর নাম রায়সা খাতুন (কেউ কেউ রাশিদা বেগম বলছেন) হিসেবে নিশ্চিত করা গেছে; তিনি নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের ফুফু বলে জানা গেছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, দুর্ঘটনাস্থলে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দিনভর চেষ্টা চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলেও চার যাত্রীর কোনো সন্ধান এখনো পায়নি।
হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a comment