বিশ্ব রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার ফলে সৃষ্ট সাময়িক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রী জানান, ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জ্বালানি সংগ্রহ ও আমদানিতে বিশ্বজুড়ে একটি সাময়িক জটিলতার সৃষ্টি হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের পর মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার ঢেউ বাংলাদেশেও এসে লাগে।
সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে বাংলাদেশকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। চুক্তির পরও জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ফলে সরবরাহ শিডিউলে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেন যে, সরকার উচ্চ মূল্য পরিশোধ করে হলেও বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানো শুরু করেছে এবং সরবরাহের সময়সূচি সুনির্দিষ্টভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করায় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুত এই সংকটের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই দুর্যোগ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নয় এবং সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এটি তৈরি করেনি। সামনের দিনগুলোতে নতুন কোনো প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক দুর্ঘটনা না ঘটলে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। জনগণকে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
Leave a comment