নেপালের নবনির্বাচিত সরকার দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর মন্ত্রিসভা অতীত ও বর্তমানের সকল উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রিসভার মুখপাত্র শাসমিত পোখরেল বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই তদন্ত প্যানেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেপালের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারি। প্যানেলটি আইনি মানদণ্ড ও অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে। তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই তদন্ত শেষ করার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
নেপালের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের মূলে রয়েছে গত সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ (Generation Z) বিক্ষোভ। তরুণ প্রজন্মের সেই আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রচলিত সব বড় রাজনৈতিক দলকে হটিয়ে বড় জয় পায় ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি)। দলটির নেতা, ৩৫ বছর বয়সী সাবেক জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সফল মেয়র বলেন্দ্র ‘বালেন’ শাহ বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়র হিসেবে তার তিন বছরের মেয়াদকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি তাকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আইকনে পরিণত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০০৮ সালে নেপাল থেকে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর যারা বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে আসীন ছিলেন, তাদের সবাই এই তদন্তের আওতায় আসবেন।
এই তদন্তের মাধ্যমে নেপালের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। তবে শত শত প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই তদন্ত কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
Leave a comment